
দৈনিক সমকণ্ঠ | বিজনেস ডেস্ক:
বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পে এমন কিছু ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, যাঁদের কর্মজীবন নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর। তাঁদেরই অন্যতম এম. মিজানুর রহমান। একজন মেডিকেল ইনফরমেশন অফিসার (MIO) হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে নিজ যোগ্যতা, কঠোর পরিশ্রম, সততা এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের শীর্ষস্থানীয় কর্পোরেট নির্বাহীদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।
কর্মজীবনের শুরু থেকেই তিনি বিশ্বাস করতেন—সফলতার কোনো শর্টকাট নেই; নিরলস পরিশ্রম, জ্ঞানার্জন এবং কর্মের প্রতি নিষ্ঠাই একজন মানুষকে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। এই বিশ্বাসকে ধারণ করেই তিনি ধাপে ধাপে সাফল্যের সিঁড়ি অতিক্রম করেছেন।
পেশাগত জীবনে তিনি দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। কর্মদক্ষতা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি Aristopharma Ltd.-এ জেনারেল ম্যানেজার (GM) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১২ সালে তিনি NIPRO JMI Pharma Limited-এ Executive Director (Marketing & Sales) হিসেবে যোগদান করেন। অসাধারণ নেতৃত্ব, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং বাজার সম্প্রসারণে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় তিনি প্রতিষ্ঠানটির Chief Executive Officer (CEO) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তাঁর নেতৃত্বে NIPRO JMI Pharma বাংলাদেশে আধুনিক ও উদ্ভাবনী চিকিৎসা প্রযুক্তি ও নতুন মলিকিউলভিত্তিক ওষুধ বাজারজাতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডায়াবেটিস, অ্যাজমা, সিওপিডি-সহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসায় আন্তর্জাতিক মানের উদ্ভাবনী পণ্য দেশের চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি সবসময়ই রোগীদের জন্য আধুনিক, কার্যকর ও মানসম্পন্ন চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
শুধু কর্পোরেট নেতৃত্ব নয়, শিক্ষাজীবনেও তিনি নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি B.Sc, MBA (Marketing) এবং M.S. in Biotechnology ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, শেখার কোনো শেষ নেই; প্রতিনিয়ত নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পারলেই একজন পেশাজীবী দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে পারেন।
দেশের স্বাস্থ্যখাতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলাদেশের সেরা ফার্মাসিউটিক্যাল পেশাজীবী–২০১৮ সম্মানে ভূষিত হন। একই সময়ে তিনি কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাওয়ার্ড–২০১৮ লাভ করেন। তাঁর এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের জন্যও এক গৌরবের বিষয়।
কর্পোরেট অঙ্গনে এম. মিজানুর রহমান একজন দক্ষ সংগঠক, সফল কৌশলবিদ এবং মানবিক নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। সহকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, জ্ঞানভিত্তিক মার্কেটিং এবং নৈতিক ব্যবসায়িক চর্চার ওপর তিনি সবসময় গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। তাঁর নেতৃত্বে হাজারো মেডিকেল ইনফরমেশন অফিসার, এরিয়া ম্যানেজার ও বিপণনকর্মী নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।
আজ বাংলাদেশের অসংখ্য তরুণ মেডিকেল ইনফরমেশন অফিসার তাঁর কর্মজীবনকে অনুসরণ করেন। তাঁদের কাছে তিনি শুধু একজন সফল CEO নন; তিনি একজন শিক্ষক, মেন্টর এবং অনুপ্রেরণার প্রতীক। তাঁর জীবনের প্রতিটি ধাপ নতুন প্রজন্মকে শেখায়—সততা, অধ্যবসায়, জ্ঞানচর্চা এবং ইতিবাচক নেতৃত্বই দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের মূল ভিত্তি।
ফার্মাসিউটিক্যাল অঙ্গনে তাঁর অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী, সহকর্মী ও অনুসারী রয়েছেন। তাঁরা সবসময় তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং কর্মময় জীবনের ধারাবাহিক সাফল্য কামনা করেন। দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ শিল্পের অগ্রযাত্রায় তাঁর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব আগামী দিনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।
