
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ১৪ আগস্ট ২০২৬:
রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে সামান্য স্বস্তির আভাস মিললেও সার্বিকভাবে ক্রেতাদের ভোগান্তি এখনো কাটেনি। গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় অধিকাংশ সবজির দাম কিছুটা কমে বর্তমানে কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে। তবে মৌসুমি সরবরাহ কম থাকায় শিমসহ কয়েকটি সবজির দাম এখনো বেশ চড়া। অন্যদিকে ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১০ টাকা কমলেও মাছ ও মাংসের বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শিম বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি প্রায় ২০০ টাকা দরে। পটল ৭০, শসা ৬০, করলা ৮০, বরবটি ৮০, ধুন্দল ৬০, ঝিঙা ৮০ এবং চিচিঙ্গা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গোল বেগুন ও কাঁকরোল ৮০ টাকা, গাজর ১২০, পেঁপে ৪০, ঢেঁড়স ৬০, কাঁচা মরিচ ১২০ এবং টমেটো ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে মিষ্টি কুমড়া ৬০, মূলা ৮০, লাউ প্রতি পিস ৬০ এবং কচুর লতি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, টানা বৃষ্টিতে সরবরাহ ও উৎপাদন ব্যাহত না হলে সবজির দাম আরও কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে।
ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় ডজনপ্রতি ডিমের দাম প্রায় ১০ টাকা কমে বর্তমানে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে একই ডিমের ডজন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল।
ব্রয়লার মুরগির দামও কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহে কেজিপ্রতি প্রায় ২০০ টাকা থাকলেও আজ তা ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সোনালি মুরগি ৩২০–৩৪০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০–৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি প্রায় ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে নির্দিষ্ট কোনো স্থিতিশীল প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। বিক্রেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো মাছের দাম একদিনে ২০–৩০ টাকা কমলেও পরদিন আবার বেড়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে পাঙাশ ২৩০, তেলাপিয়া ২৬০, পাবদা ৩৫০–৪০০, রুই ৩০০–৫০০, ট্যাংরা প্রায় ৭০০, ভেটকি ৪০০–৫৫০ এবং মৃগেল ২৫০–৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম মানভেদে ৮০০–৯০০ টাকা, দেশি কই ৭০০–৮০০ এবং চাষের কই প্রায় ৩০০ টাকা কেজি। শিং মাছ আকারভেদে ৩০০–৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের বাজারে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন নেই। রাজধানীর বাজারে গরুর মাংস বর্তমানে প্রতি কেজি প্রায় ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য আমিষের চাহিদা পূরণ এখনো ব্যয়বহুল হয়ে আছে।
সাম্প্রতিক বাজারদর অনুযায়ী, সরু চালের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৭০–৮৫ টাকা, মাঝারি চাল ৫৫–৬৫ টাকা এবং মোটা চাল ৫০–৫৫ টাকা। খোলা আটা ৪৫–৫০ টাকা এবং প্যাকেটজাত আটা ৬০–৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মসুর ডালের দাম ধরন ও মানভেদে প্রায় ৯০ থেকে ১৬০ টাকা এবং মুগডাল ১৩০–১৭০ টাকা কেজি। ছোলা ৯০–১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ভোজ্যতেলের বাজারেও দাম এখনো চড়া। খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৮৬–১৯২ টাকা, বোতলজাত এক লিটার ১৯৯ টাকা, দুই লিটার ৩৯৮ টাকা এবং পাঁচ লিটার ৯৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খোলা পাম অয়েল ১৬৫–১৭০ টাকা এবং সুপার পাম অয়েল ১৭০–১৭৫ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে।
দেশি পেঁয়াজ বর্তমানে কেজিপ্রতি ৫০–৬০ টাকা, দেশি রসুন ১০০–১২০ টাকা এবং আমদানি করা রসুন ১৭০–২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি আদা ১৩০–১৬০ টাকা এবং আমদানি করা আদা ১৫০–২০০ টাকা কেজি।
শুকনা মরিচ দেশি ৩২০–৩৮০ টাকা এবং আমদানি করা ৩৮০–৪৫০ টাকা কেজি। জিরা ৬০০–৬৫০, দারুচিনি ৫২০–৬০০, লবঙ্গ ১ হাজার ৪০০–১ হাজার ৬০০ এবং ছোট এলাচ ৪ হাজার ৬০০–৫ হাজার ৫০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, কিছু সবজি ও ডিমের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হলেও সামগ্রিক নিত্যপণ্যের বাজার এখনো পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। বিশেষ করে মাছ, মাংস, ভোজ্যতেল ও বিভিন্ন মসলার উচ্চমূল্য সাধারণ ক্রেতার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
সরকারি বাজারদর পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বাজারে সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিং জোরদার করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) নিয়মিত রাজধানীর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খুচরা বাজারদর প্রকাশ করে; সর্বশেষ সরকারি তালিকাও বাজার পরিস্থিতি যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
দৈনিক সমকন্ঠের পর্যবেক্ষণ:
ক্রেতাদের প্রত্যাশা—শুধু বাজারে অভিযান পরিচালনা নয়, পণ্যের সরবরাহ, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের মূল্য ব্যবধান এবং বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হবে। এতে একদিকে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন, অন্যদিকে ভোক্তারাও যৌক্তিক দামে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন।
নোট: বাজারদর স্থান, মান, সরবরাহ ও সময়ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। উপরের দামগুলো ১৪ আগস্ট ২০২৬-এর রাজধানীর বাজারসংক্রান্ত প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সর্বশেষ পাওয়া বাজারদর তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
