
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পাকিস্তানের আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে বড় এবং প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ প্রদেশ বেলুচিস্তান দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা,বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন ও নিরাপত্তা সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। স্বাধীন ‘বেলুচিস্তান’ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক সংগঠন বহু বছর ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে হামলা, নিরাপত্তা অভিযান এবং সংঘর্ষের ঘটনায় বিষয়টি আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে।
বেলুচিস্তান পাকিস্তানের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৪৪ শতাংশ জুড়ে বিস্তৃত হলেও জনসংখ্যা তুলনামূলক কম। প্রদেশটি প্রাকৃতিক গ্যাস, তামা, স্বর্ণ ও অন্যান্য খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। এছাড়া আরব সাগরের তীরে অবস্থিত গোয়াদর বন্দর চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (CPEC)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
বেলুচ জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, স্বাধীনতার পর থেকে প্রদেশটির সম্পদ থেকে অর্জিত সুবিধা স্থানীয় জনগণ যথাযথভাবে পায়নি। তারা অভিযোগ করে, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ঘাটতি, অর্থনৈতিক বৈষম্য, উন্নয়ন বঞ্চনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণেই স্বাধীনতার দাবি জোরালো হয়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, বেলুচিস্তানের উন্নয়নে বিপুল বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সহিংস কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
বেলুচিস্তানে সক্রিয় কয়েকটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরাপত্তা বাহিনী, সরকারি স্থাপনা ও অবকাঠামোতে হামলার দায় স্বীকার করেছে। এসব সংগঠনকে পাকিস্তান সরকার সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে এবং তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বেলুচিস্তানে গুম, বিচারবহির্ভূত আটক এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগের অনেকগুলো প্রত্যাখ্যান করে জানায়, সন্ত্রাস দমনের স্বার্থেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বেলুচিস্তান শুধু পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; চীন, ইরান, আফগানিস্তান এবং ভারতসহ আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতেও এর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে গোয়াদর বন্দর এবং চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (CPEC) প্রকল্পকে কেন্দ্র করে অঞ্চলটির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেলুচিস্তানে সংঘর্ষ, নিরাপত্তা অভিযান এবং হামলার ঘটনা বেড়েছে। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, বেসামরিক নাগরিক এবং বিদ্রোহী—উভয় পক্ষেই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাকিস্তান সরকার নিরাপত্তা জোরদার করেছে, অন্যদিকে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলো তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে আসছে।
