
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অসংখ্য রেকর্ড গড়লেও একটি বিষয় সবসময় আলোচনায় ছিল—তিনি কখনোই ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের বিপক্ষে মাঠে নামেননি।
এর পেছনে রয়েছে এক বিরল ঘটনা। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট হাঙ্গেরির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেক হয় মাত্র ১৮ বছর বয়সী মেসির। কিন্তু বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ৪৫ সেকেন্ডের মাথায় প্রতিপক্ষকে কনুই দিয়ে আঘাত করার অভিযোগে তিনি সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। ফলে পরবর্তী আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলতে পারেননি।
সেই নিষেধাজ্ঞার কারণেই ২০০৫ সালের ১২ নভেম্বর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা দলে সুযোগ পাননি মেসি। ওই ম্যাচে মাইকেল ওয়েনের জোড়া গোলে ইংল্যান্ড ৩–২ ব্যবধানে জয় লাভ করে।
এরপর থেকে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে আর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত না হওয়ায় মেসিরও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামা হয়ে ওঠেনি। এ সময়ের মধ্যে তিনি আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দিয়ে ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ এবং ২০২২ সালের ফাইনালিসিমা জয়ের গৌরব অর্জন করেন। ব্যক্তিগত অর্জনেও তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক অধ্যায়। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ আজও কিংবদন্তি হয়ে আছে। অন্যদিকে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড ও টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডের বিদায়ও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।