
স্টাফ রিপোর্টার | দৈনিক সমকন্ঠ:
ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা তিতাস এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ভৈরব রেলসেতুর কাছে ট্রেনটি দীর্ঘ সময় আটকে পড়ে। ফলে নির্ধারিত সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে পৌঁছাতে না পারায় শত শত যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। শিশু, নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘ অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা ও সঠিক তথ্যের অভাবে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও অপেক্ষমাণ যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেনের বিলম্বের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বারবার আশ্বাস দিলেও ট্রেন কখন স্টেশনে পৌঁছাবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। অনেক যাত্রীর দাবি, প্রকৃত পরিস্থিতি গোপন করে বারবার মিথ্যা আশ্বাস দেওয়ায় তাদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
এদিকে টিকিট সংকটের সুযোগ নিয়ে কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগও উঠেছে। যেসব যাত্রী সরকারি নির্ধারিত ৭৫ টাকার টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি, তাদের অনেকেই বাধ্য হয়ে দালাল বা টিকিট ব্লাকারদের কাছ থেকে প্রায় ৩০০ টাকায় টিকিট কিনেছেন। কিন্তু ট্রেনের দীর্ঘ বিলম্বে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অনেক যাত্রী জানান, কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ট্রেনের কোনো নিশ্চিত খবর না পেয়ে শেষ পর্যন্ত টিকিট ফেরত দিয়ে বাসযোগে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হতে বাধ্য হয়েছেন। এতে তাদের অতিরিক্ত অর্থ, সময় ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।
এ বিষয়ে রেলওয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান,ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ে চলাচল করতে পারেনি। এ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। কারিগরি সমস্যা সমাধানের পর ট্রেনটি পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে।
যাত্রীরা অভিযোগ করেন,শুধু প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানই নয়, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্ভুল তথ্য প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি টিকিট কালোবাজারি বন্ধে কঠোর নজরদারি, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রেলসেবার মানোন্নয়নের দাবি জানান তারা।
রেলপথ দেশের অন্যতম নিরাপদ ও সাশ্রয়ী গণপরিবহন হলেও এ ধরনের ঘটনা যাত্রীসেবার মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত ইঞ্জিন রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং যাত্রীবান্ধব তথ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ভোগান্তি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।
