• মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
প্রাচীন ঐতিহ্যের আলোকে নববর্ষ ১৪৩৩ শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় – রাফসান চৌধুরী।  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে ঔষধ কোম্পানির সকল কলিগদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মোঃ রবিউল করিম রবিন। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সমাজসেবক ও সাংবাদিক মোঃ রবিউল করিম রনি জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীকে আটকের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামীলীগ। নীতিনৈতিকতাহীন অর্থনির্ভর রাজনীতি দেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি:দেশবন্ধু রেমিটেন্স যুদ্ধা সংসদ। হ‍্যাস্নলো বারার ডেপুটি মেয়র মুজিবুর রহমান ঝুনু’র মৃত‍্যুতে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র শোক প্রকাশ নিউইয়র্কে বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করে ৪০তম ফোবানা সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত। দেশের প্রথম ‘বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদ’ গঠন করলেন প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। রাজশাহী ও বগুড়ায় র‍্যাবের যৌথ অভিযান: আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের মূলহোতা জুয়েলসহ গ্রেফতার ৫। নিউইয়র্কে বিভিন্ন সংগঠনের ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ পালিত।

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ: বাঙালির স্বাধীনতার অগ্নিঝরা আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক দৈনিক সমকন্ঠ / ২৮৭ Time View
Update : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ: বাঙালিদের স্বাধীনতার অগ্নিঝরা আহ্বান।

 

ডেস্ক নিউজ:

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন 7 March Speech of Bangabandhu। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার Ramna Race Course Ground (বর্তমান Suhrawardy Udyan) ময়দানে লাখো জনতার উপস্থিতিতে জাতির জনক Sheikh Mujibur Rahman যে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, তা বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এই ভাষণ শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল না; এটি ছিল স্বাধীনতার জন্য বাঙালির চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা ও মুক্তির অগ্নিসংকেত।

সেই সময় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বৈষম্য, দমন-পীড়ন এবং বাঙালির ন্যায্য অধিকার অস্বীকারের প্রতিবাদে উত্তাল ছিল সমগ্র পূর্ববাংলা। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন পাওয়ার পরও ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা এবং ষড়যন্ত্রের কারণে জনগণের ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাখো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে জাতিকে সাহস, ধৈর্য ও সংগ্রামের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

তার ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন—“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”এই অমর উচ্চারণ বাঙালি জাতির হৃদয়ে স্বাধীনতার আগুন জ্বালিয়ে দেয়।ভাষণের প্রতিটি শব্দে ছিল বাঙালির আত্মমর্যাদা, অধিকার আদায় এবং শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর দৃঢ় প্রত্যয়।

বঙ্গবন্ধু তার বক্তব্যে দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান এবং অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলতে হবে এবং যার যা কিছু আছে তা নিয়েই শত্রুর মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে। একই সঙ্গে তিনি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল আন্দোলনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে জনগণের ঐক্য অটুট থাকে।

এই ঐতিহাসিক ভাষণই পরবর্তীতে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রেরণা জুগিয়েছিল এবং এর ধারাবাহিকতায় শুরু হয় মহান Bangladesh Liberation War। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন ও সার্বভৌম Bangladesh

বিশ্ব ইতিহাসেও এই ভাষণের গুরুত্ব অপরিসীম। মানবমুক্তির এক অনন্য দলিল হিসেবে UNESCO ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে “মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার”-এ অন্তর্ভুক্ত করে। এর মাধ্যমে এই ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের অমূল্য সম্পদ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

আজও ৭ই মার্চ এলেই বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধা ও গর্বের সঙ্গে স্মরণ করে বঙ্গবন্ধুর সেই অগ্নিঝরা ভাষণ। এটি শুধু অতীতের একটি স্মৃতি নয়; বরং স্বাধীনতা, সাহস, আত্মমর্যাদা এবং জাতীয় ঐক্যের এক অনন্ত প্রেরণা। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ভাষণ চিরকাল স্বাধীনতার চেতনা জাগিয়ে রাখবে এবং দেশপ্রেমের আলো ছড়িয়ে যাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

Share


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category