শেরপুরের ঝিনাইগাতীর দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে পলাতক শিশু ধর্ষণ মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব ১৪।
শেরপুর থেকে মোঃ সাইদুর রহমান আপন।
শেরপুরের ঝিনাইগাতীর দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে পলাতক শিশু ধর্ষণ মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকা হতে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৪ সিপিসি-১ জামালপুর ক্যাম্প।
বাংলাদেশ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রান্তিলগ্নে “বাংলাদেশ আমার অহংকার” এই শ্লোগান নিয়ে জন্ম হয় র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৪) এর। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে র্যাব বাংলাদেশের মানুষের কাছে আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। বিভিন্ন ধরনের চাঞ্চল্যকর অপরাধের স্বরূপ উৎঘাটন করে অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার কারণেই এই প্রতিষ্ঠান মানুষের কাছে আস্থা ও নিরাপত্তার অন্য নাম হিসেবে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে। র্যাব তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জঙ্গি ও সন্ত্রাস, ধর্ষণ, মাদক, অস্ত্র, অপহরণ, মানব-পাচার, হত্যাসহ বিভিন্ন প্রকার অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থানে থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে যা দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণ কর্তৃক ইতোমধ্যেই বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
এখানে উল্লেখ্য যে, ভিকটিম শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী থানার নলকুড়া গ্রামের মোঃ সহিদুর রহমান (৪৫) এর ০৬(ছয়) বছরের শিশু কন্যা। ভিকটিম গত ২৬/১১/২০০৪ ইং তারিখ রোজ শুক্রবার সময় অনুমান ০৫.১৫ মিনিটে তার বাবার খোঁজে বাড়ীর পশ্চিম পাশে মহারশি নদীর পশ্চিম ধারে যায়। সেখানে ভিকটিম তার বাবাকে না পেয়ে বাড়ীতে ফেরার সময় একই গ্রামের মোঃ আবেদ আলীর ছেলে আসামী মোঃ জাকির হোসেন (৩৫) এর সাথে দেখা হয়। এমন সময় আসামী মোঃ জাকির হোসেন বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ভিকটিমের শিশু সুলভ আচরন ও সরল বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ভাঁটের ফুল দেখাবে বলে নদীর ধারে একটি ঝোপ ঝারের ভিতর নিয়ে যায়। অতঃপর আসামী মোঃ জাকির হোসেন উক্ত স্থানে ভিকটিমকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূরর্বক ধর্ষণ করে।
এমতাবস্থায় ভিকটিম আত্মচিৎকার করতে থাকলে তার মা ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে আসামী মোঃ জাকির হোসেন ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়া যায়। স্থানীয় লোকজন ভিকটিমকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধারপূর্বক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তর্যরত ডাক্তার চিকিৎসা প্রদান করেন।
পরবর্তীতে ভিকটিমের বাবা শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী থানায় হাজির হইয়া বাদী হয়ে লিখিতভাবে এজাহার দাখিল করলে অফিসার-ইনচার্জ, ঝিনাইগাতী থানার মামলা নং-০৭/৯১, তারিখঃ ২৮/১১/২০০৪ ইং, ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ২০০০ (সংশোধনী/০৩) এর ৯(১)ধারায় একটি ধর্ষণ মামলা রুজু করেন।
মামলার তদন্তকারী অফিসার মামলা সুষ্ঠু তদন্ত শেষে আসামীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধন-২০০৩) এর ৯(১) ধারায় বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ ট্রাইবুনাল-২, শেরপুর মহোদয় গত ০৮/১০/২০০৯ ইং তারিখে আসামী মোঃ জাকির হোসেন, পিতা-মোঃ আবেদ আলী, সাং-নলকুড়া, থানা-ঝিনাইগাতী, জেলা-শেরপুর এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা অর্থদন্ড এবং অনাদায়ে আরো ৩ মাসের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করেন।
এরই প্রেক্ষিতে, বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে র্যাব-১৪, সিপিসি-১, জামালপুর এবং র্যাব-১১, সিপিএসসি, আদমজীনগর, নারায়ণগঞ্জ এর যৌথাভিযানিক দল অদ্য ২২/১১/২০২৩ ইং তারিখ রাত্রি ১২.২০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন মাদানীনগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ধর্ষণ মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী মোঃ জাকির হোসেন’কে আটক করতে সক্ষম হয়।
আটককৃত আসামীকে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী থানায় সূত্রোক্ত মামলা মোতাবেক হস্তান্তর করা হয়েছে।